রমজান মাসের শেষ পর্যায়ে এসে গোটা ভারতজুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে — ইদ উল-ফিতর ২০২৬ কবে? মার্চের ২০ তারিখ, নাকি ২১ তারিখ? চাঁদ দেখা যাবে কখন? পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ছুটি কবে? এই প্রশ্নগুলো এখন প্রতিটি মুসলিম পরিবারের ঘরে ঘরে আলোচিত হচ্ছে।

ইদ উল-ফিতর — যাকে আমরা “মিষ্টি ইদ” বা “খুশির ইদ”ও বলি — এটি ইসলামের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি। পুরো রমজান মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন এই উৎসব পালিত হয়। কিন্তু ইসলামিক ক্যালেন্ডার চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায়, ইদের তারিখ আগে থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। চাঁদ দেখার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়, আসলে কোন দিন ইদ পালিত হবে।​

এই আর্টিকেলে ইদ উল-ফিতর ২০২৬-এর সম্ভাব্য তারিখ, চাঁদ দেখার সময়, পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা ভারতে ছুটির তালিকা এবং ইদ উদযাপনের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।

ইদ উল-ফিতর ২০২৬: ভারতে সম্ভাব্য তারিখ কী?

২০২৬ সালে ভারতে ইদ উল-ফিতর পালিত হবে ২০ মার্চ (শুক্রবার) অথবা ২১ মার্চ (শনিবার)। তারিখটা নির্ভর করছে ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায় কি না তার উপর।​

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মানে ২০ মার্চ শুক্রবার ইদ পালনের সম্ভাবনাই বেশি। তবে যদি মেঘলা আকাশ বা আবহাওয়ার কারণে চাঁদ না দেখা যায়, তাহলে রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং ২১ মার্চ শনিবার ইদ পালিত হবে।

বিষয় তারিখ / দিন
রমজান শুরু (সম্ভাব্য) ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)
চাঁদ দেখার রাত (চাঁদ রাত) ১৯ মার্চ ২০২৬ (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা)
ইদ উল-ফিতর (সম্ভাব্য) ২০ মার্চ ২০২৬ (শুক্রবার)
ইদ উল-ফিতর (বিকল্প) ২১ মার্চ ২০২৬ (শনিবার)
পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ছুটি ২০ ও ২১ মার্চ ২০২৬ উভয় দিন


ইদের চাঁদ কবে দেখা যাবে? চাঁদ রাতের তাৎপর্য

ইসলামিক ক্যালেন্ডারে প্রতিটি মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। মাসের ২৯তম সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ বা হেলাল খোঁজা হয়। যদি চাঁদ দেখা যায়, পরের দিন থেকেই নতুন মাস শুরু হয়। আর ইদের ক্ষেত্রে এই নতুন মাসটি হলো শাওয়াল, যার প্রথম দিনেই পালিত হয় ইদ উল-ফিতর।​

২০২৬ সালে রমজান মাসের ২৯তম দিন পড়েছে ১৯ মার্চ। তাই ১৯ মার্চ সন্ধ্যাটি হলো চাঁদ রাত। সারা ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে আকাশে শাওয়ালের নতুন চাঁদ খুঁজবেন।

চাঁদ রাতের বিশেষত্ব

চাঁদ রাত শুধু চাঁদ দেখার অপেক্ষায় কাটানোর রাত নয়। এটি একটি আবেগময় রাত। রমজানের বিদায়ের বেদনা আর ইদের আনন্দের মিশেল — এই দুটো অনুভূতি একসাথে আসে এই বিশেষ রাতে। মেহেদি পরা, বাজার করা, বাড়ি সাজানো, আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ — সবকিছু একসাথে শুরু হয় চাঁদ দেখার ঘোষণার পরেই।

ভারতে সাধারণত রুইয়াতে হিলাল কমিটি বা স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনগুলো চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়। তাদের ঘোষণার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয় ইদের তারিখ।​

পশ্চিমবঙ্গে ইদের ছুটি কবে? সরকারি ঘোষণা কী?

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় ইদ উল-ফিতর উপলক্ষে দুটি দিন ছুটি রেখেছে।​

তারিখ দিন ছুটির কারণ
২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার Id-ul-Fitr (Day before Ramadan / রমজানের আগের দিন)
২১ মার্চ ২০২৬ শনিবার Id-ul-Fitr / End of Ramadan (রমজান সমাপ্তি)

এই দুটি ছুটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল হলিডে লিস্টে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ইদ যে দিনই পড়ুক না কেন, পশ্চিমবঙ্গে উভয় দিনই সরকারি ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।​

স্কুল, কলেজ ও অফিসে ছুটি

পশ্চিমবঙ্গ অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সমস্ত অফিস, স্কুল ও কলেজে ইদ উল-ফিতরের দিন ছুটি থাকবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছুটি পালিত হবে। যেহেতু ২০ ও ২১ দুটো দিনই ছুটির আওতায় রয়েছে, তাই ২২ মার্চ (রবিবার) মিলিয়ে একটানা তিন দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।​

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইদ ২০২৬-এর সম্ভাব্য তারিখ

ভারত একটি বড় দেশ, এবং বিভিন্ন রাজ্যে চাঁদ দেখার সময় ও পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। তবে সাধারণত গোটা দেশে একই দিনে ইদ পালিত হয়। এখানে প্রধান রাজ্যগুলোর সম্ভাব্য ইদের তারিখ দেওয়া হলো:

রাজ্য সম্ভাব্য ইদের তারিখ
পশ্চিমবঙ্গ ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
উত্তরপ্রদেশ ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
মহারাষ্ট্র ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
কেরালা ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
কর্ণাটক ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
জম্মু ও কাশ্মীর ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
দিল্লি ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬

জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০ মার্চ শুক্রবার সারা ভারতে ইদ পালনের সম্ভাবনা বেশি।​

ইদ উল-ফিতর কী এবং কেন পালন করা হয়?

ইদ উল-ফিতর ইসলামের দুটি প্রধান উৎসবের একটি। আরবি “ফিতর” শব্দের অর্থ হলো রোজা ভাঙা বা উপবাস শেষ করা। তাই ইদ উল-ফিতরকে “রোজা ভাঙার উৎসব”ও বলা হয়। পুরো রমজান মাস ধরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখার পর, মাসের শেষে এই আনন্দের দিনটি আসে।​

ইদ উল-ফিতরের ধর্মীয় গুরুত্ব

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, রমজান মাসে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন। রমজানের শেষ দিকে “লাইলাতুল কদর” বা শবেকদরের রাত আসে, যাকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত বলা হয়। রমজান শেষে ইদের দিন মানুষ আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, নামাজ পড়েন, এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান।

ইদের দিন ফজরের পর বিশেষ ইদের নামাজ পড়া হয়, যাকে “সালাতুল ইদ” বলে। এই নামাজ সাধারণত ঈদগাহে বা বড় মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করা হয়। নামাজের আগে ফিতরা বা যাকাতুল ফিতর দেওয়া ওয়াজিব — এটি দরিদ্র মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় যাতে তারাও ইদের আনন্দে শরিক হতে পারেন।

ইদের প্রস্তুতি: কী কী করণীয়?

ইদের আনন্দ পূর্ণ হয় প্রস্তুতির মাধ্যমে। শুধু পোশাক কেনা বা রান্না করা নয়, ইদের প্রস্তুতির একটি আধ্যাত্মিক দিকও আছে। নিচে বিস্তারিত জানানো হলো:

আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি

  • রমজানের শেষ ১০ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করুন, বিশেষত লাইলাতুল কদর খোঁজুন
  • ইদের আগের রাত (চাঁদ রাত) তেকবির পাঠ করুন — “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ…”
  • ইদের দিন ফজরের আগেই গোসল করুন, পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরুন
  • ইদের নামাজের আগে কিছু খান (সুন্নাত হলো খেজুর খাওয়া)
  • ইদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা দিন বা নিশ্চিত করুন

পারিবারিক ও সামাজিক প্রস্তুতি

  • আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সাথে দেখা করার পরিকল্পনা করুন
  • বাড়ি পরিষ্কার ও সাজানোর ব্যবস্থা করুন
  • বিশেষ খাবার — সেমাই, পায়েস, বিরিয়ানি, কোরমা রান্নার আয়োজন করুন
  • নতুন পোশাক, চুড়ি, মেহেদি — বিশেষত মহিলা ও শিশুদের জন্য ব্যবস্থা করুন
  • দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের সাহায্য করুন, ইদি দিন

রমজান ২০২৬: কবে শুরু হয়েছিল?

২০২৬ সালের রমজান মাস শুরু হয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) থেকে। ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখা গিয়েছিল। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, রমজান হলো নবম মাস এবং এটি ২৯ বা ৩০ দিনের হয়।​

যদি রমজান ২৯ দিনে শেষ হয়, তাহলে ১৯ মার্চ রাতে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০ মার্চ ইদ। আর রমজান যদি ৩০ দিনের হয়, তাহলে ২১ মার্চ ইদ।​

রমজান ও ইদের সংযোগ

রমজান মাসটি কেবল রোজার মাস নয়। এটি কোরআন নাজিলের মাস, আত্মশুদ্ধির মাস, দান-সদকার মাস। এই মাসে মুসলিমরা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন, বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করেন, এবং গরীবদের সাহায্য করেন। রমজানের এই পুরো প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটে ইদ উল-ফিতরের মাধ্যমে — যেন একমাসের কঠোর সাধনার পুরস্কার।

ইদ উল-ফিতর ২০২৬: ভারতের বিভিন্ন শহরে উদযাপন

ভারত একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। তাই ইদের উদযাপনও জায়গাভেদে একটু একটু আলাদা। তবে প্রার্থনা, আনন্দ এবং ভাগ করে নেওয়ার মূল ভাব সর্বত্র একই।

কলকাতায় ইদ উদযাপন

কলকাতার রেড রোড ঈদগাহ, নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ — এই জায়গাগুলোতে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইদের নামাজ পড়েন। কলকাতার পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাজার এলাকায় ইদের বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়। মার্কেজিনহো মার্কেট থেকে শুরু করে নিউ মার্কেটে কেনাকাটার হিড়িক পড়ে যায় ইদের আগে।

সিলিগুড়িতে ইদ উদযাপন

উত্তরবঙ্গের প্রধান শহর সিলিগুড়িতেও ইদ উল-ফিতর বেশ জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়। এখানকার প্রধান মসজিদগুলোতে ইদের নামাজের বিশাল জামাত হয়। বাজার এলাকায় ইদের কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। রোজার সময় ইফতারের বাজারও এখানে বেশ জনপ্রিয়।

দিল্লিতে ইদ

দিল্লির জামা মসজিদে ইদের নামাজ দেশের সবচেয়ে বড় জামাতগুলোর একটি। লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হন সেখানে। পুরনো দিল্লির গলি-ঘুঁজিতে ইদের উৎসব যেন এক অন্য রূপ নেয়।

হায়দরাবাদে ইদ

হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদ ভারতের অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ। ইদের দিন এখানে হাজার হাজার মানুষ নামাজ পড়েন। হায়দরাবাদের বিখ্যাত বিরিয়ানি ও হালিম ইদের দিন বিশেষভাবে উপভোগ করা হয়।

ইদ উল-ফিতর ২০২৬-এ কী কী রান্না হয়?

ইদের খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, এটি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। বাংলায় ইদের সকালে সেমাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

বাংলার ঐতিহ্যবাহী ইদের খাবার

  • সেমাই — দুধ, চিনি ও কিশমিশ দিয়ে তৈরি মিষ্টি সেমাই ইদের সকালে আবশ্যিক
  • ফিরনি বা পায়েস — চালের আটা বা চাল দিয়ে তৈরি মিষ্টি ক্ষীর
  • বিরিয়ানি — মাটন বা চিকেন বিরিয়ানি ইদের মূল খাবারের অন্যতম
  • কোরমা — মাংসের কোরমা রান্না বাংলার ইদে বিশেষ জনপ্রিয়
  • রেজালা — সাদা গ্রেভিতে মাংসের এই রান্নাটি কলকাতার বিশেষত্ব
  • শামি কাবাব ও বোটি কাবাব — মাংসের কাবাব দুপুরের খাবারে জনপ্রিয়
  • লাচ্ছা সেমাই — ঘি ও বাদাম দিয়ে শুকনো ভাজা সেমাই

ইদের নামাজ: নিয়ম ও সময়

ইদ উল-ফিতরের নামাজ ওয়াজিব। সূর্যোদয়ের পর থেকে দুপুরের আগে পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ইদের নামাজ হয়।

ইদের নামাজের বিশেষ নিয়ম

  • ইদের নামাজ দুই রাকাত
  • প্রতিটি রাকাতে অতিরিক্ত তেকবির পড়তে হয়
  • প্রথম রাকাতে নামাজ শুরুর তেকবিরের পর আরও ৩টি অতিরিক্ত তেকবির
  • দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর আগে আরও ৩টি অতিরিক্ত তেকবির
  • নামাজের পর খুতবা (ধর্মীয় ভাষণ) দেওয়া হয়
  • ইদের নামাজ জামাতে পড়া উত্তম

যাকাতুল ফিতর বা ফিতরা: কী এবং কতটুকু দিতে হবে?

ফিতরা বা যাকাতুল ফিতর ইদের নামাজের আগে আদায় করা ওয়াজিব। এটি দরিদ্র মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে হয় যাতে তারাও ইদের আনন্দে অংশ নিতে পারেন।

ফিতরা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে ফিতরা দিতে হয়
  • ফিতরার পরিমাণ স্থানীয় বাজারে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যের উপর নির্ভর করে
  • সাধারণত গম, যব, খেজুর, কিশমিশ — এগুলোর হিসেবে ফিতরা নির্ধারিত হয়
  • টাকার মাধ্যমেও ফিতরা দেওয়া যায়
  • ফিতরা সংগ্রহ করে স্থানীয় গরীব মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হয়

ইদ ও বাংলার সংস্কৃতি: একটি অনন্য মিলন

বাংলায় ইদ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক উৎসবও বটে। বাংলার গ্রামে-গঞ্জে ইদের দিন হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মানুষ একে অপরের বাড়িতে যান। সেমাই খান, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সম্প্রীতির সংস্কৃতি বাংলার গর্ব।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের “ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” গানটি বাংলার ইদের আনন্দকে চিরকালের মতো ধরে রেখেছে। ইদের দিন এই গানটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উভয় জায়গায় বিশেষভাবে বাজানো হয়।

ইদ উল-ফিতর ২০২৬: দেশে ও বিদেশে কোথায় কবে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইদের তারিখ একটু আলাদা হতে পারে চাঁদ দেখার সময়ের পার্থক্যের কারণে।

দেশ/অঞ্চল সম্ভাব্য ইদের তারিখ
সৌদি আরব ২০ মার্চ ২০২৬ (শুক্রবার)
ভারত ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
পাকিস্তান ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬
ইন্দোনেশিয়া ২০ মার্চ ২০২৬
তুরস্ক ২০ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাজ্য ২০ মার্চ ২০২৬
আমেরিকা ২০ মার্চ ২০২৬

 

শেষ কথা: ইদের আনন্দ হোক সবার জন্য

ইদ উল-ফিতর ২০২৬ নিয়ে এখন যা জানা দরকার তার সবটাই এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হয়েছে। ২০ মার্চ বা ২১ মার্চ — যে দিনই ইদ আসুক, আনন্দটা কিন্তু একটুও কম হবে না। ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় আকাশের দিকে তাকান। যদি পাতলা হাসির মতো চাঁদটা দেখা যায়, বুঝবেন — পরের দিন মানে ২০ মার্চ শুক্রবারই ইদ।

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ছুটি দুই দিনই আছে, তাই ছুটি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। পরিবারের সাথে সময় কাটান, প্রতিবেশীদের শুভেচ্ছা জানান, গরিবদের পাশে দাঁড়ান — ইদের আসল মানেই এটুকু। সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক!